*সনাতন ঐক্য
* হে মানব, তোমরা একসঙ্গে চল, একসঙ্গে মিলে আলোচনা কর, তোমাদের মন উত্তম সংস্কারযুক্ত হউক। পূর্বকালীন জ্ঞানী পুরুষেরা যেরূপ কর্তব্য সম্পাদন করেছেন, তোমরাও সেরূপ কর (ঋগ্বেদ ১০/১৯৭/২)।
* তোমাদের মন এক হোক, মিলন-ভূমি এক হোক, চিত্ত এক হোক, মত এক হোক, সকলের চিত্ত সমিল্লিত হোক, তোমাদের সকলকেই একই মন্ত্রে সংযুক্ত করেছি, তোমাদের অন্ন ও উপভোগ একই প্রকারে দিয়েছি (ঋগ্বেদ ১০/১৯১/৩)।
* তোমাদের সকলের লক্ষ্য সমান হোক, হৃদয় ও মন সমান হোক আর এভাবেই তোমাদের শক্তি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হোক (ঋগ্বেদ ১০/১৯১/৪)।
*সনাতন ধর্মের প্রাতস্মরনীয় কিছু বাণী
মানবের মধ্যে কেউ বড় নয়, কেউ ছোট নয় । জন্ম থেকেই তারা শ্রেষ্ঠ। (ঋগ্বেদ ৫/৫৯/৬)।
মানবের মধ্যে কেহ বড় নয়, কেহ ছোট নয়। ইহারা ভাই ভাই সৌভাগ্য লাভের জন্য প্রযত্ন করে। ইহাদের পিতা তরুন শুভকর্মা ঈশ্বর এবং মাতা দুগ্ধবতী প্রকৃতি। মাতা ক্রন্দনহীণ পুরুষার্থী সন্তানকেই সুদিন প্রদান করেন।" (ঋগ্বেদ ৫/৬০/৫)
এর চেয়ে মানবতার শিক্ষা আর কি হতে পারে? একজন সনাতন ধর্মাবলম্বীই প্রকৃত মানবতবাদী।
কর্কশ স্বরে কথা বল না, তিক্ত কথা যেন মুখ ফস্কে বেরিয়ে না যায় (যজুর্বেদ: ৫/৮)।
সত্যিকারের ধার্মিক সব সময় মিষ্টভাষী ও অন্যের প্রতি সহমর্মী (সামবেদ: ৫/২১)।
সমাজকে ভালবাসো। ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও। দুর্গতকে সাহায্য করো। সত্য-ন্যায়ের সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রাখার শক্তি অর্জন করো (ঋগবেদ: ৬/৭৫/৯)।
নি:শর্ত দানের জন্য রয়েছে চমৎকার পুরষ্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য জীবন ও অমরত্ব (ঋগবেদ: ১/৮৯/২)।
এসো প্রভুর সেবক হই। গরীব ও অভাবীদের দান করি (ঋগবেদ: ১/১৫/৮)।
বিদ্বান ও সৎচরিত্র লোকদের সাথে বন্ধুত্ব কর, দুশ্চরিত্রদের বর্জন করো। (ঋগবেদ: ১/৮৯/২)।
সদা সত্যাশ্রয়ী ও সত্যবাদী হবে (অর্থববেদ: ৩/৩০/৫)।
অলস মস্তিক কুচিন্তা সহজ শিকার (ঋগবেদ: ১০/২২/৮)।
"ব্রহ্ম হতে কীট সর্বভূতে প্রেমময়।
বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুজেছি ঈশ্বর।
জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।।" (স্বামী বিবেকানন্দ)
"দশজন উপাধ্যায় থেকে একজন আচার্যের গৌরব বেশি, একশত আচার্যের থেকে পিতার গৌরব বেশি। সহস্র পিতা অপেক্ষা মাতার সম্মান বেশি।।" (মনুসংহিতা, ২/১৪৫)
"তোমরা উথিত হও, মোহ-নিদ্রা ত্যাগ করে জাগ্রত হও, শ্রেষ্ঠ আচার্যগণের নিকট গমন করে আত্মতত্ত্ব জ্ঞাত হও। যারা ক্রান্তদর্শী তারা বলেন আত্মজ্ঞানের পথ ক্ষুরধারার মত দুর্গম-দুরতিক্রমনীয়।" (কঠোপনিষদ, ১/৩/১৪)।
"সদগুরুর শরনাগত হয়ে তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার চেষ্টা কর। বিনম্র চিত্তে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা কর এবং অকৃত্রিম সেবার দ্বারা তাকে সন্তুষ্ট কর। তা হলে সেই তত্ত্বদ্রষ্টা পুরুষেরা তোমাকে জ্ঞান উপদেশ দান করবেন।" (শ্রীগীতা, ৪/৩৪)
"প্রকৃতির তিনটি গুন ও কর্ম অনুসারে আমি মানব সমাজে চারটি বর্ণবিভাগ সৃষ্টি করেছি। আমি এই প্রথার সৃষ্টি করলেও আমাকে অকর্তা এবং অব্যয় বলে জানবে।" (শ্রীগীতা)
"হিন্দু ধর্ম থেকে একজন অন্য ধর্মে চলে যাওয়ার অর্থ একজন কমে যাওয়াই নয়, একজন শত্রু বৃদ্ধি হওয়া।" (স্বামী বিবেকানন্দ)
"হে মনুষ্যগণ, তোমরা ঈশ্বরের মহিমাকে বর্ধিত কর, অনার্যকে প্রকৃত বৈদিক শিক্ষা দাও এবং সমগ্র জগৎকে বৈদিক ধর্মে দীক্ষিত কর।" (ঋগ্বেদ, ৯/৬৩/৫)।
♦♦ এই জগতে চিন্ময় জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছু নাই (গীতা ৪/৩৮) ♦♦