আমরা এখন সমাজের উচ্চ স্তরের আধুনিক যুগে বসবাস করি।আমাদের হাতে আধুনিকতার সবগুলো সুযোগে আছে কিন্তু শুধুমাত্র একটা জায়গায় আমারা আধুনিক হতে পারেনি। একটা জায়গায় আমরা সেই সেখানে রেখে গেলাম। প্রাচীনকালে কোন সমাজ ব্যবস্থা ছিলনা কিন্তু মানুষ সংঘবদ্ধভাবে জীবন-যাপন করতে। কারণ কখনো কোনো বহিঃশত্রু পশুপাখি আক্রমণ করে তাহলে তারা নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে।
বর্তমানে আমরা যে সমাজে বসবাস করি সেটা হচ্ছে একটা পশুর সমাজ। এখানে পশুরা ঠিক যেরকম ব্যবহার করে আমরা এরকম ব্যবহার করেছি। অথচ আমাদেরকে বলা হয় সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের আচরণগুলো দিনদিন পশুর থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের আচরণ এখন এমন হয়েছে, যে আমাদের দেখে পশুরাও লজ্জা পায় ।
বর্তমানে পশুরাও আমাদের থেকে ভালো আচরণ করে, কারণ তারা নিজের জাত টাকে চিনে। হ্যাঁ আপনারা ঠিকই ধরেছেন আমি কথা বলতে চাই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সেই মহিলা সম্পর্কে।রাতে ধর্ষণ করার পরে তার ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়েছে । সে এমন কথা বলেছে তাদেরকে আমার বাচ্চা আছে আমাকে ধর্ষণ কর না। তাদের কাছে অনেক কাকুতি-মিনতি করে শেষ রক্ষা করেনি তার প্রতি দয়া হয়নি।
সিলেটের একটা ঘটনা স্বামী স্ত্রী ভার্সিটিতে বেড়াতে গেছে। ছাত্রলীগের কিছু কাডার তাদেরকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করল। ধর্ষণের সময় আমাদের সমাজের মোল্লারা এবং মহাজনরা এবং ইসলামী চিন্তাবিদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা বলে থাকে। নারীর পোশাক এ সমস্যা।
এখন আমার প্রশ্ন হল যে মহিলা গুলো বাইরে বেরোয় তাদের পোশাকে সমস্যা এটা মেনে নিলাম। কিন্তু যে মহিলাদের বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে তাদের কি সমস্যা ছিল। এক্ষেত্রে মোল্লার হয়তোবা চুপ থাকবেন বা নতুন কোনো কথা বলবেন। সব মোল্লারে এবং সব ইসলামী চিন্তাবিদদের একটু কমান একটা জায়গায় এসে বলে, মহিলাদের পর্দাশীল হতে হবে এবং তাদের বোরকা পরতে হবে। এখানে উল্লেখ করা ভালো যে আমাদের গণ্যমান্য একজন হুজুর শফি হুজুর তিনি বলেছিলেন মহিলারা তেঁতুলের মতো যাদের দেখতে নাকি মুখ দিয়ে লালা ঝরে। যেখানে হেফাজতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা মহিলাদের তেতুলের সাথে তুলনা করতে পারে সেখান থেকে আমরা কি আশা করতে পারি।
সবথেকে বড় সমস্যা হচ্ছে তাদের চিন্তাভাবনা প্রবলেম আছে। আপনি যদি আপনার চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করেন আপনার সমাজের পরিবর্তন হয়ে যাবে। যতদিন পর্যন্ত আমরা নিজেকে পরিবর্তন না করতে পারব ততদিন সমাজ পরিবর্তন হবে না। নিজের পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন হবে। এখন একটা ঘটনা ঘটলে রাস্তা ব্লক করে গোল হয়ে দাঁড়ায় প্রতিবাদ জানায় কোনো লাভ হচ্ছে না। আমাদের অন্য কিছু চিন্তা করতে। অন্যায় প্রতিবাদ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য নতুন করে প্রতিবাদের ভাষা তৈরি করতে হবে। অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।
আচ্ছা যে ধর্ষণ করে তার বাবা মা নাই, তার ফ্যামিলি নাই। তার তো সবাই আছে আত্মীয়-স্বজন বাবা-মা পাড়া-প্রতিবেশী সবাই। তাহলে তার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন তাকে সবথেকে ভালোভাবে শাস্তি দিতে পারে। একজন ধর্ষককের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন সামাজিকভাবে বহিস্কৃত করা যেতে পারে। যে ব্যক্তি ধর্ষণ করেছে যদি সে বিবাহিত হয় তাহলে তার সন্তানের সামনে এসে দাঁড়াতে পারবেনা। পৃথিবীতে কোন সন্তানের চায় না যে তার
একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী তার ধর্ষণ নিয়ে একটা এক্সপেরিমেন্ট করেছেন। এক্সপেরিমেন্টের উৎপাদনশীলতা একটা কুকুর। তিনি চারটে কুকুরকে আলাদা করে রাখলেন এবং প্রতিদিন তাদের নির্দিষ্ট টাইমে খাবার দিতেন। এর পরে তিনি দেখলেন যে কুকুরগুলো খাবার খাওয়ার সময় এক ধরেন মালা বের করে। এভাবে চলতে লাগল বেশ কিছুদিন তারপর তিনি খেয়াল করলেন যে তার পায়ের শব্দ শুনেই কুকুরের মুখ দিয়ে এক ধরনের মালা বের হয়। এরপর তিনি আর একটা নতুন নিক চিন্তা করলেন যে তিনি আসার আগে একটা বেল বাজাবেন। এরপরে খাবার না নিয়ে এলো বেল বাজালো কুকুরে মুখ দিয়ে ঠিক আছে আমি একটা লালা বের হতো।
এখানে বোঝা যায় যে আসলে মানুষের মস্তিষ্কে সবকিছু উৎপন্ন হয়। আপনি যদি মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তাহলে আপনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ।আপনি যদি মস্তিষ্কে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারেন আপনি কোন কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না ।
আমাদের সমাজটা এমনভাবে তৈরি করা যায় না, যেখানে একজন ধর্ষক কে বিশেষভাবে প্রচার করা হবে।যিনি একজন ধর্ষক সে একটা জঘন্যতম কাজ করেছে। তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তার বাবা মা তাকে বয়কট করবে তার আত্মীয়স্বজন বয়কট করবে আস্তে আস্তে দেখা যাবে সে সমাজে কোন স্থানই পাবেন। যখন একজন ব্যক্তির সাথে এই ধরনের কাজ করবেন। তখন সে আপনি আপনি তার এই ধরনের খারাপ চিন্তা মাথা থেকে চলে যাবে।
সর্বোপরি আমাদের আইনের শাসন ভালোবেসে কঠোর হতে হবে। আইনটা সৌদির আরবের মত করতে হবে। ধর্ষণ এখন একটা সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এটাকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। সমাজ যদি একতাবদ্ধ হয় তাহলে এটা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
আমাদের সামাজিকতা এর বড় হাতিয়ার সামাজিকভাবে তাদেরকে বয়কট করতে হবে। আর কেউ যেন কখনও ধর্ষন না হয়। আমাদের মানবিক মূল্যবোধ এটা সহ পরিবার থেকেই দিতে হবে। পরিবার যদি সুশিক্ষিত শিক্ষা দেয় তাহলে সন্তান ও সুশিক্ষিত হয়।এখন আমাদের পরিবারের বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সন্তানকে যেন সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারে এবং এটা যে একটা জঘন্যতম অপরাধ। সেটা যেন তারা তাদের কে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে পারি।